আজ : ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : জুন ৩০, ২০২০

  • কোন মন্তব্য নেই

    এক মাসে থাকা-খাওয়ার বিল কি করে ২০ কোটি টাকা হয় : প্রধানমন্ত্রী

     মাননীয় প্রথানমন্ত্রি শেখ হাসিনা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের থাকাখাওয়ার বিল কি করে ২০ কোটি টাকা হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,।

    গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনে আলোচনায় একথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘থাকাখাওয়া বাবদ মেডিকেল কলেজের হিসেব অনুযায়ী ২০ কোটি টাকা ব্যয় একটু বেশিই মনে হচ্ছে। তবে, এটা আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হবে। এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

    করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া ২০২০২১ অর্থ বছরের বাজেটকে কেউ কেউ উচ্চাভিলাষি বললেও সরকার এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনও ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবো না। আমরা কখনও হতাশায় ভুগিনা। আমরা সবসময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।

    সংসদ নেতা বলেন, ‘অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি আশাবাদী, বা উচ্চাভিলাষী। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, সবসময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। আজকে কোভিড১৯ এর জন্য সবকিছু স্থবির। তবে, আমরা আশাবাদী যে, অবস্থা থাকবে না। এর থেকে উত্তরণ ঘটবে। আজকে যদি হঠাৎ সে অবস্থার উত্তরণ ঘটে যায়, তাহলে আগামীতে আমরা কি করব, সেটা চিন্তা করেই এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি।

    দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুদ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে বলেও এসময় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোভিড১৯এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি হবে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২০২১ অর্থবছরের জন্য লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সে হিসেবে এটি আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট। যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এদেশকে উপহার দিয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ বাজেটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জীবন জীবিকা রক্ষার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসৃজন সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১৪১) অনুমোদন করেছে। যার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাড়াও, আমরা আগামী অর্থবছর হতে বছর মেয়াদি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব যার মূল প্রতিপাদ্য হবে দারিদ্র্য আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘হয়তো তখন আমরা বেঁচে থাকবো না, কিন্তু কাজ আমরা করে যাচ্ছি, কর্মপন্থা দিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা যেন এটা অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

    প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, ‘বাংলাদেশ বিগত ১২ বছরে গড়ে দশমিক শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হলেও কোভিড১৯ মহামারির প্রভাবে চলতি অর্থবছরে ধারায় কিছুটা হয়তো ছন্দপতন হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘ মহামারির কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ার প্রভাবে আমাদের দেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারি মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকে করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আমরা যে সুবিশাল আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন শুরু করেছি, তার মাধ্যমে আমরা সম্ভাবনাকে অনেকটাই রোধ করতে সক্ষম হবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

    চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ১১ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে লক্ষ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে যা গত বোরো মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সামনে যে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে এবং দেশের কোন মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না। কারণ আমাদের খাদ্য চাহিদা কোটি ৭৫ লাখ মেট্রিক টন সেখানে উৎপাদন হয়েছে কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। ২৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং এই উৎপাদন আমরা অব্যাহত রাখবো। কাজেই আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না।

    বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং সরকার দলীয় জেষ্ঠ্য সাংসদ বেগম মতিয়া চৌধুরীও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। . শিরীন শারমিন চৌধুরী সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *